ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের তকিপুর মসজিদ থেকে তাজপুর বাজার পর্যন্ত সড়কের পাশে থাকা ৪৩৪টি গাছ নিলামে বিক্রির পর কেটে নেওয়ার ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নিলাম প্রক্রিয়া শুরু হলেও চলতি বছরের ১০ আগস্ট গাছগুলো কাটার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সড়কের পাশে বন বিভাগের চিহ্নিত ৪৩৪টি গাছ নিলামে তোলা হয়। নিলামে সুনামগঞ্জের আলী ইমাম আল মাহমুদ সুমন ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকায় গাছগুলো কিনে নেন।
সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান স্বাক্ষরিত কার্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, নিলাম থেকে প্রাপ্ত অর্থের মধ্যে উপকারভোগীরা পাবেন ৯ লাখ ৬৪ হাজার ৮০০ টাকা এবং সরকারি কোষাগারে যাবে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ২০০ টাকা।
নিলামকৃত গাছের মধ্যে রয়েছে রেইন্টি ১৭৪টি, মেহগনি ১১৪টি, আকাশমনি ২৮টি, শিশু ৪৫টি, জাম ২৬টি, পিটালী ১০টি, অর্জুন ১০টি, ছাতিয়ান ৭টি, জারুল ৬টি, গামার ৬টি, কড়ই ৩টি, চাম্বুল ২টি, বাবলা ১টি ও কদম ২টি।
বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এসব গাছে মোট ৩ হাজার ৫২৯ ঘনফুট কাঠ এবং ২ হাজার ৬৭১ ঘনফুট জ্বালানি কাঠ রয়েছে।
এদিকে গাছের নিলাম, মূল্য নির্ধারণ, কাঠের পরিমাণ এবং নিলাম প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন, ছাতক উপজেলা শাখা।
সংগঠনটির দাবি, গাছগুলোর প্রকৃত বাজারমূল্য, সরকারি মূল্যায়ন এবং নিলামে সর্বোচ্চ ও প্রতিযোগিতামূলক দর নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, তা জনসম্মুখে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
সংগঠনের আহ্বায়ক দিলোয়ার হোসেন ও সদস্য সচিব সুজন তালুকদার বলেন, সরকারি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। গাছের প্রজাতি, বয়স, আকার, কাঠের পরিমাণ ও বাজারমূল্য বিবেচনায় যথাযথ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, তাহিরপুর-সাচনা সড়কে গাছ কাটার বিষয়ে যৌক্তিক দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক বৃক্ষ কর্তন স্থগিত করেছেন। একইভাবে ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের গাছ নিলাম ও মূল্যায়নের বিষয়টিও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তবে ছাতক ফরেস্ট-বিট কর্মকর্তা কেবিএম ফেরদৌস বলেন, সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের জন্য সুষ্ঠু নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাছগুলো নিলামে দেওয়া হয়েছে।
গাছের সংখ্যা, প্রজাতি, কাঠের পরিমাণ, মূল্যায়ন ও নিলামমূল্য নিয়ে ওঠা প্রশ্নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বিষয়টি নিয়ে জনমনে থাকা সংশয় দূর হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
