আমার সিলেট ডেস্ক: নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। মামলার প্রায় ১৩ দিন পর বুধবার ভোরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১৪ এর গণমাধ্যম শাখার কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামসুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার পটভূমি
মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বর মাসে ভুক্তভোগী শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে শিশুটি বিষয়টি আরেকজন শিক্ষকের কাছে জানায়। এরপর তাকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রায় পাঁচ মাস পর শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে তার মা বিষয়টি জানতে চাইলে সে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে। এরপর পরিবার আইনগত ব্যবস্থা নেয়।
গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় দুইজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তার ও পরবর্তী পদক্ষেপ
মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক ছিলেন।
মঙ্গলবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকার কথা বলেন।
র্যাবের অভিযানে বুধবার ভোরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে মদন থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে র্যাব।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুপুরের মধ্যে আসামিকে থানায় হস্তান্তর করা হবে।
চিকিৎসককে হুমকির অভিযোগ
এদিকে ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসায় নিয়োজিত এক নারী চিকিৎসক (ডা. সায়মা, নাম উল্লেখ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সূত্রে প্রচারিত) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, তিনি চিকিৎসা দেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও চাপের মুখে রয়েছেন।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি শুধুমাত্র পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ভুক্তভোগীর চিকিৎসা দিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বর্তমান পরিস্থিতি
পুরো ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আইনগত প্রেক্ষাপট
এই ধরনের মামলা বাংলাদেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর আওতায় পরিচালিত হয়ে থাকে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত,এ ধরনের সংবেদনশীল ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত তাকে আইনগতভাবে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করা হয়, দোষী নয়।
