ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় এক বিধবা নারীকে কুপ্রস্তাব, ভয়ভীতি প্রদর্শন, শারীরিক নির্যাতন এবং বিদ্যুৎ–পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি আবুল কাশেম হারুনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী জেসমিন আক্তার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগে আবুল কাশেম হারুনকে প্রধান আসামি করে আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযোগ দায়েরের পরও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর তদন্ত শুরু হয়নি।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্ত আবুল কাশেম হারুন তার ঘরে প্রবেশ করে অনৈতিক প্রস্তাব দেন এবং এতে সাড়া না দেওয়ায় তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
জেসমিন আক্তার অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তার বসতঘরের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে, ফলে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তিনি আরও জানান, তার স্বামী শাহ মো. লিয়াকত আলী খান ২০২৫ সালের মে মাসে মারা যাওয়ার পর থেকেই তিনি নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন। স্থানীয়ভাবে বিচার চাইলেও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল কাশেম হারুনের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
গীতিকার ও কবি মনির উদ্দিন নূরী দাবি করেন, অভিযোগের বিষয়ে প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপের কারণে তদন্ত কার্যক্রম ধীরগতির রয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ছৈলা আফজলাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদ মিয়া বলেন, ইউএনও’র নির্দেশে অভিযুক্তদের ইউনিয়ন পরিষদে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রধান অভিযুক্ত উপস্থিত হননি। বিষয়টি থানাকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে ভুক্তভোগী নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
