ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ এবং দ্রুত বিচার দাবিতে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়-এর ছাতক শাখার উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ১১টায় ছাতক পৌরশহরের স্থানীয় কেন্দ্রের সামনের সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। রামিশাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক সাত শিশুকে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে হত্যার ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনের ব্যানারে লেখা ছিল— “শিশু নির্যাতন বন্ধ করুন, শিশু হত্যার বিচার চাই।”
কর্মসূচিতে অংশ নেন ছাতক ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক আলমগীর ও বাকের। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাতক শাখার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ জানে আলম, আবু বকর সিদ্দিক, তাওহিদ, আব্দুল কাদির, মোছা. আঁখি আক্তার, মোছা. বৈশাখী আক্তার, মুহাম্মদ ইব্রাহিম, ফারহানা সায়েক, আদর আলী, শাহজাহান, সজল, সুমন মিয়াসহ স্থানীয় শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা।
বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মিরপুর, সিলেট, ঠাকুরগাঁও ও মুন্সীগঞ্জ-সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যেভাবে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটছে, তা সভ্য সমাজের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে সাতটি শিশু হত্যার মতো নৃশংস ঘটনা পুরো জাতিকে শোকাহত করেছে।
বক্তারা আরও বলেন, “আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এই নিষ্পাপ শিশুরা যদি নিজেদের দেশেই নিরাপদ না থাকে, তবে রাষ্ট্রের অগ্রগতি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।”
তারা অভিযোগ করেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ফলে সমাজে ভয়, সহিংসতা ও অনিরাপত্তা বাড়ছে।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা রামিশাসহ সাম্প্রতিক সব শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার দ্রুত তদন্ত, জড়িতদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। তারা বলেন, “অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।”
এছাড়া শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, শিশু অধিকার রক্ষার এই আন্দোলন ছাতক থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে এবং অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।
কর্মসূচি শেষে নিহত শিশুদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়।
