মামলা, বেরিকেড ও নৌ-পুলিশের নিয়মিত টহলের নির্দেশ
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: ছাতক সিমেন্ট কারখানার গুরুত্বপূর্ণ রোপ লাইন (রোপওয়ে) রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন। রোপ লাইনের ঝুঁকিপূর্ণ দুটি টাওয়ার সরেজমিনে পরিদর্শন করে তিনি অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা, নদীতীরে শক্তিশালী বেরিকেড নির্মাণ এবং সুরমা নদীতে নৌ-পুলিশের নিয়মিত টহল জোরদারের নির্দেশ দেন।
গত বুধবার বিকেল ৬টার দিকে এমপি কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন রোপ লাইনের ঝুঁকিপূর্ণ টাওয়ার দুটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি টাওয়ার দুটির বর্তমান অবস্থা, নদীভাঙন এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র সুরমা নদী ও সংলগ্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে রোপ লাইনের দুটি টাওয়ারের নিচের মাটি সরে গেছে। এতে টাওয়ারগুলোর স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ছাতক সিমেন্ট কারখানার ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও সরকারি সম্পদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পরিদর্শনকালে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এমপি মিলন। তিনি ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে মামলা করার নির্দেশ দেন। মামলা দায়েরের পরও কেউ ওই এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখলে তাদেরও মামলায় ‘গং’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন তিনি।
এ সময় ফ্যাক্টরির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সিবিএ নেতা শফিউদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টরা কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পি.ডি. আব্দুর রহমান বাদশার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। রোপ লাইন ও কারখানার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি করণীয় নিয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন এমপি মিলন।
রোপ লাইনের নদীতীরবর্তী অংশকে তাৎক্ষণিকভাবে সুরক্ষিত করতে আগামী দুই দিনের মধ্যে বাঁশ দিয়ে শক্তিশালী বেরিকেড বা বেষ্টনী নির্মাণের নির্দেশ দেন তিনি। এ বেষ্টনী নির্মাণের মাধ্যমে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের প্রবেশ এবং নদীতীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ড্রেজার পরিচালনা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
শুধু তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নয়, রোপ লাইনের টাওয়ারগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন এমপি মিলন। আগামী গ্রীষ্মকালে সিমেন্ট ও বালুর মিশ্রণ নদীতে ফেলে টাওয়ারের চারপাশের নরম ও সরে যাওয়া মাটি শক্তিশালী করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন তিনি। এতে নদীর স্রোত ও ভাঙনের কারণে টাওয়ারের গোড়ার মাটি সরে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
অন্যদিকে, সুরমা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ছাতক নৌ-পুলিশকে প্রতিদিন নিয়মিত টহল জোরদারের নির্দেশ দেন এমপি মিলন। শুধু অভিযান পরিচালনার সময় নয়, নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, “ছাতক সিমেন্ট কারখানা আমাদের সরকারি সম্পদ। এটি রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। এই কারখানা চালু হলে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাই রাষ্ট্রের স্বার্থে সবাইকে এটি রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কোনো দলের পরিচয় আমি জানতে চাই না। অপরাধী যে-ই হোক, কেউ ছাড় পাবে না।”
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছাতক সিমেন্ট কারখানার রোপ লাইন এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটির কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও এটি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রত্যাশা রয়েছে। কারখানাটি চালু হলে ছাতকসহ আশপাশের এলাকার কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা। তাই সরকারি স্থাপনা রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা জরুরি বলে দাবি স্থানীয়দের।
পরিদর্শনকালে ছাতকের ভূমি অফিসার, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ, বন বিভাগের কর্মকর্তা, ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি সিবিএ নেতা শফিউদ্দিনসহ সিবিএ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুর রহমান বাবুল, ইসলামপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আয়না মিয়া, বর্তমান মেম্বার আলী হোসেন, সাবেক মেম্বার আব্দুল মোছাব্বির, সোনাপুর আলী, শ্রমিক নেতা আবদুস সোবহান, হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন ছাতক উপজেলার আহ্বায়ক দিলোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, শ্রমিক নেতা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এমপি মিলনের এ পরিদর্শন ও নির্দেশনার পর রোপ লাইনের নিরাপত্তা এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনিক তৎপরতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
