জুড়ী (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের বড়ধামাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক আবু সাঈদের মারধরে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী তাওহীদা জান্নাত অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও ঘটনার দু’দিন পার হয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সচেতন অভিভাবক মহলে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা যায়, শনিবার (৯ মে) বিদ্যালয়ে প্রথম প্রান্তিক পরীক্ষার বাংলা বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষার খাতায় একটি প্রশ্নের উত্তর ভুল লেখায় ক্ষিপ্ত হয়ে সহকারী শিক্ষক আবু সাঈদ ছাত্রী তাওহীদা জান্নাতকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তার শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় এবং নাক দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে।
তাওহীদা জান্নাত পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের বড়ধামাই এলাকার হাসন খান ও দিলারা বেগম দম্পতির তিন মেয়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। ঘটনার পর কোনোভাবে বাসায় ফিরলেও পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে জুড়ী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এদিকে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ভিডিও ও সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে রহস্যজনক কারণে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এখনো কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শিক্ষার্থীর বাবা হাসন খান ও মা দিলারা বেগম বলেন, “একজন শিক্ষক এভাবে আমাদের মেয়েকে মারধর করতে পারেন না। আমাদের মেয়ে এখনও আতঙ্কে রয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
বড়ধামাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস শিক্ষার্থীকে শিক্ষক কর্তৃক থাপ্পড় দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দিলীপময় দাস চৌধুরী বলেন, “ঘটনাটি আমি জেনেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
অন্যদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম বলেন, “বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম। অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
