১২ ঘণ্টার গোপন অভিযানে টিলার ওপর থেকে আটক, সিটিটিসির কাছে হস্তান্তর
আফজাল হোসেন রুমেল, বড়লেখা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বিশেষ গোপন অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠন “মাকতাবাহ আল হিম্মাহ আদদাওয়াতুল ইসলামিয়াহ”-এর সদস্য ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য মো. রাহেদ হোসেন মাহেদ (২৩)-কে গ্রেফতার করেছে বড়লেখা থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার দুর্গম বোবারথল ষাইটঘরি এলাকার একটি উঁচু টিলা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গ্রেফতার রাহেদ হোসেন মাহেদ সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর এলাকার নূর মিয়ার ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জাতীয় সংসদসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সম্ভাব্য উগ্রবাদী হামলার পরিকল্পনা সংক্রান্ত বিষয়ে গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে গোয়েন্দা সতর্কতা জারি করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য রাহেদ হোসেন মাহেদ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
এ তথ্যের ভিত্তিতে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. রিয়াজুল ইসলামের নির্দেশনায় বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান খানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ পুলিশ দল অভিযান পরিচালনা করে। প্রায় ১২ ঘণ্টাব্যাপী সতর্কতামূলক অভিযানের একপর্যায়ে বোবারথল ষাইটঘরি এলাকার একটি টিলা থেকে তাকে আটক করা হয়।
যাচাই-বাছাই শেষে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেফতারকৃত রাহেদ হোসেন মাহেদ কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের তদন্তাধীন একটি মামলার আসামি। ডিএমপির শাহবাগ থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি উগ্রবাদী জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া রেড অ্যালার্ট জারির পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন এবং সম্প্রতি অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলেও জানা গেছে।
বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান খান শুক্রবার (১৫ মে) সকালে বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। পরবর্তী তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম সিটিটিসি ইউনিট পরিচালনা করছে।”
