জুড়ী (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)—এমন অভিযোগ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনসাধারণের কঠোর অবস্থানের কারণে এসব চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
শুক্রবার ও শনিবার (২৬-২৭ জুন) বড়লেখা উপজেলার বোবারথল সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে বিজিবি ও বিএসএফ মুখোমুখি অবস্থানে ছিল। শেষ পর্যন্ত কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে প্রবেশ করাতে পারেনি বিএসএফ বলে দাবি করেছে বিজিবি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বোবারথলের ষাটঘরি ও আশপাশের সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন দলে লোকজনকে শূন্যরেখার ওপারে জড়ো করে পুশইনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিষয়টি নজরে আসার পর বিজিবি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টহল ও নজরদারি জোরদার করে।
শুক্রবার দুপুরে বোবারথল ষাটঘরি সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা হলে বিজিবি সদস্যরা হ্যান্ডমাইকে সতর্কবার্তা দেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারাও লাঠিসোঁটা নিয়ে সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিজিবিকে সহযোগিতা করেন। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত দুই বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করলেও শেষ পর্যন্ত পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শনিবারও একই সীমান্ত এলাকায় অনুরূপ অপচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, ৫২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বাধীন প্রায় ১১৪ কিলোমিটার সীমান্ত বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলায় অবস্থিত। এর মধ্যে বড়লেখা অংশের অধিকাংশ এলাকা দুর্গম ও গভীর বনাঞ্চল হওয়ায় সীমান্ত নজরদারিতে বাড়তি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বোবারথল, পাল্লাথল, কুমারসাইল ও বড়াইল সীমান্তকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
৫২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে বিএসএফ বড়লেখার বোবারথল সীমান্ত দিয়ে পুশইনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এসব অপচেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় জনসাধারণও বিজিবিকে সহযোগিতা করছেন। শনিবারও বিএসএফের কয়েক দফা চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে।”
