শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখান বাজারস্থ সাউথ বালিশিরা কেজি স্কুলে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, ছানি শনাক্তকরণ এবং চশমা বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) স্কুলের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিনের উদ্যোগে এবং মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল (মাতারকাপন)-এর সহযোগিতায় সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ চক্ষু শিবির পরিচালিত হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, আশপাশের গ্রামসহ দূর-দূরান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেবা নিতে আসেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, মোট ২২০ জন রোগী নিবন্ধন করেন। তাদের মধ্যে ১৪৫ জনকে বিনামূল্যে চশমা প্রদান করা হয় এবং ২৫ জনের চোখে ছানি শনাক্ত হয়। শনাক্ত রোগীদের অপারেশনের জন্য মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপারেশন শেষে তাদের নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।
সেবা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, অর্থাভাবে অনেক দরিদ্র মানুষ ছানির অপারেশন করাতে পারেন না। ফলে ধীরে ধীরে তারা দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েন। বিনামূল্যে এ ধরনের সেবা পেয়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত রাখার দাবি জানান। একই সঙ্গে আয়োজক ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পল্লী চিকিৎসক স্বপন কুমার প্রধান, কনটেন্ট ক্রিয়েটর আবুল কালাম আজাদ, পল্লী চিকিৎসক আলমগীর হোসেন ও মাওলানা ছালাহ উদ্দিন আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সাউথ বালিশিরা কেজি স্কুলের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, “নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২২০ জন রোগী নিবন্ধন করেছেন। তাদের মধ্যে ১৪৫ জনকে চশমা দেওয়া হয়েছে এবং ২৫ জনের চোখে ছানি শনাক্ত হয়েছে। এসব রোগীকে অপারেশনের জন্য বিএনএসবি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপারেশন শেষে তাদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে।” তিনি এ আয়োজন সফল করতে সহযোগিতার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও কুঞ্জবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ডা. একরামুল কবির বলেন, “বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবীরাও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। প্রতি বছরের মতো এবারও সাউথ বালিশিরা কেজি স্কুলে চক্ষু শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি।”
