শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: অনলাইন সহিংসতা, ঘৃণামূলক বক্তব্য ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রতিরোধে তরুণ ও প্রবীণ সমাজের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া জোরদারে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে শ্রীমঙ্গলে। বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (বিইআই)-এর উদ্যোগে ২২ ও ২৩ মে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
২৩ মে অনুষ্ঠিত সংলাপ কর্মসূচিতে তরুণ ও প্রবীণ সমাজ মুখোমুখি আলোচনায় অংশ নেন। এতে অনলাইন বিভ্রান্তিমূলক তথ্য, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ঘৃণামূলক বক্তব্য ও সহিংসতার সামাজিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা, প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিকত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংলাপে বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (বিইআই)-এর প্রেসিডেন্ট ও সাবেক রাষ্ট্রদূত এম. হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের ডেপুটি ডিরেক্টর চৌধুরি সামিউল হক, গবেষণা কর্মকর্তা আবিদ হাসান এবং রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হুসাইন মুহাম্মদ রাইয়ান অংশ নেন।
সংলাপের এক পর্যায়ে তরুণ অংশগ্রহণকারীরা শ্রীমঙ্গলে একটি কমিউনিটি-ভিত্তিক ফ্যাক্ট-চেকিং গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, স্থানীয় পর্যায়ে বিভ্রান্তিমূলক ও ভুল তথ্য শনাক্ত ও যাচাই করে তা প্রবীণ সমাজের কাছে তুলে ধরা হবে। বক্তারা বলেন, এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ প্রজন্মের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সচেতন ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।
এর আগে ২২ মে আয়োজিত কর্মশালায় বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালার মূল বিষয় ছিল ফ্যাক্ট-চেকিং, তথ্য যাচাইয়ের কৌশল এবং অনলাইনে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য শনাক্তকরণ। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন গবেষণা কর্মকর্তা আবিদ হাসান। অংশগ্রহণকারীদের রিভার্স ইমেজ সার্চ, তথ্যের উৎস যাচাই, বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেকিং টুলের ব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
অংশগ্রহণকারীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের তথ্য বিশ্লেষণ ও যাচাইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। ভবিষ্যতেও তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও শান্তিপূর্ণ ডিজিটাল সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী বলে জানান।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (বিইআই) ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি বেসরকারি, অরাজনৈতিক ও অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি সুশাসন, গণতান্ত্রিক চর্চা, নিরাপত্তা এবং দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও নীতিনির্ধারণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
