অপহরণের প্রমাণ মেলেনি বলে পুলিশের দাবি, স্বজনদের ভিন্ন অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল:মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় অবশেষে নয়দিন পর এইচএসসি পরীক্ষা শেষে নিখোঁজ হওয়া এক পরীক্ষার্থীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অপহরণের অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে শিক্ষার্থীর স্বজনদের দাবি, এটি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনের ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের উত্যক্তের ঘটনার সঙ্গে এর যোগসূত্র থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীর স্বজনরা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই দ্বারীকা পাল মহিলা কলেজ কেন্দ্র থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের মাধবপাশা গ্রামের বাসিন্দা সুমা (ছদ্মনাম)।
শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে শ্রীমঙ্গল থানার সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই) মুহিবুর রহমান ও এসআই হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শহরের সন্ধানী পাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আশিদ্রোন ইউনিয়নের ভূজপুর এলাকার বাসিন্দা অশেষ দেবনাথ নামে এক যুবককে থানায় নিয়ে আসা হয়।
সুমার (ছদ্মনাম) মামা রাসেল মিয়া অভিযোগ করেন, নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নের সময় থেকেই অশেষ দেবনাথ তাঁর ভাগ্নিকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করে আসছিলেন। তাঁর দাবি, ওই যুবকের বিরুদ্ধে আরও কয়েকজন তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে পুলিশ জানায়, ২৯ জুলাই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার পরদিন ৩০ জুলাই শ্রীমঙ্গল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন অশেষ দেবনাথকে একাধিকবার থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পাশাপাশি গত এক বছরের প্রযুক্তিনির্ভর কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করেও সুমা (ছদ্মনাম)ও অশেষ দেবনাথের মধ্যে কোনো ধরনের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উদ্ধারকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমা (ছদ্মনাম) জানান, পারিবারিক কলহ এবং মায়ের কথিত নির্যাতনের কারণে তিনি পরীক্ষা শেষে বাড়িতে না ফিরে স্বেচ্ছায় এক বান্ধবীর বাসায় অবস্থান করছিলেন।
শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ জানায়, শিক্ষার্থীর পরিবারের অভিযোগ এবং উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীর প্রাথমিক বক্তব্য—উভয় বিষয়ই গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে অপহরণ বা অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না পাওয়া গেলে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীকে তাঁর পরিবারের জিম্মায় এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা অশেষ দেবনাথকে তাঁর অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পুলিশ আরও জানায়, তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। তদন্তে নতুন কোনো তথ্য, আলামত বা অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
