শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ফিসারির ঘরে আশ্রয় নিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইমরান (১৮) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। অকালপ্রয়াত এ তরুণের জন্য দেশবাসী ও এলাকাবাসীর কাছে দোয়ার আকুতি জানিয়েছেন তাঁর শোকার্ত পিতা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোরে উপজেলার ৫ নম্বর কালাপুর ইউনিয়নের বরুনা হাজীপুর এলাকায় জিল্লুর রহমানের একটি ফিসারির ঘরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইমরান বরুনা হাজীপুর গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে। তিন বোন ও দুই ভাইসহ মোট পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে ইমরান ছিলেন সবার ছোট।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইমরান প্রতিদিনের মতো শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে প্রতিবেশী ওয়াসিম মিয়ার ফিসারিতে যান। ভোরে হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে তিনি নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য পাশে থাকা জিল্লুর রহমানের ফিসারির একটি টিনের ঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। ইমরানের সঙ্গে থাকা তাঁর চাচাতো ভাই চিৎকার শুনে ছুটে এসে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইমরানকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের সবচেয়ে ছোট সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বাবা শাহজাহান মিয়া। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “পাঁচ সন্তানের মধ্যে ইমরান ছিল সবার ছোট ও আদরের। তার এমন অকাল মৃত্যু আমি মেনে নিতে পারছি না। আমার আদরের ছেলের জন্য সবাই একটু খাস দিলে দোয়া করবেন, যেন আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করেন।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এ. মতলিব বলেন, “বৃষ্টির সময় ফিসারির ঘরে আশ্রয় নিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তরুণটির মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে ছোট সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটি আজ দিশেহারা, ঘটনাটি সত্যিই অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।”
শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরকার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, “সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘরের বিদ্যুতের লাইনটি কীভাবে নিচে ছিল বা অসাবধানতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
এদিকে, দুর্ঘটনার স্থান হিসেবে চিহ্নিত ফিসারির মালিক জিল্লুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
পরিবারের আদরের ও কনিষ্ঠ সন্তান ইমরানের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে বরুনা হাজীপুর এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
