স্টাফ রিপোর্টার: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে পালিত হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রাচীন লোকজ উৎসব চড়ক পূজা। ভক্তি, ত্যাগ ও গ্রামীণ সংস্কৃতির সমন্বয়ে এ উৎসবকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চৈত্র মাসের শেষ দিনকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগ থেকেই পূজার প্রস্তুতি শুরু হয়। মন্দির প্রাঙ্গণ কিংবা খোলা মাঠে স্থাপন করা হয় “চড়ক গাছ”। ভক্তরা ব্রত পালন, উপবাস ও বিভিন্ন ধর্মীয় নিয়ম-কানুন মেনে পূজার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেন।
চৈত্র সংক্রান্তির দিন সকাল থেকে শুরু হয় মূল আনুষ্ঠানিকতা। ভক্তরা ভগবান শিবের সন্তুষ্টি কামনায় পূজা অর্চনা করেন। কিছু স্থানে আগুনের উপর হাঁটা, কাঁটার বিছানায় শোয়ার মতো প্রতীকী আচারও পালন করা হয়। অতীতে প্রচলিত শরীরে হুক গেঁথে চড়ক গাছে ঘোরানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ আচার বর্তমানে অনেকাংশে বন্ধ বা সীমিত করা হয়েছে।
চড়ক পূজাকে ঘিরে বসে গ্রামীণ মেলা, যা স্থানীয় মানুষের কাছে বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে দেখা দেয়। মেলায় বিভিন্ন ধরনের দোকান, খেলনা, মিষ্টি ও খাবারের স্টল ছাড়াও নাগরদোলা, লোকগান, বাউল পরিবেশনা ও যাত্রাপালার আয়োজন করা হয়। এতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যায়।
শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবেই নয়, চড়ক পূজা এ অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের মানুষও মেলায় অংশ নিয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
স্থানীয় আয়োজকরা জানান, প্রশাসনের সহযোগিতায় এবার উৎসবটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে আয়োজন করা হওয়ায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
উপজেলার ইসবপুর গ্রামের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে তারা বলছেন, শতাধিক বছর ধরে এই পূজা তারা পালন করে আসছে, শুধু ইসবপুর গ্রামে নয় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এই অনুষ্ঠানটি হয়ে থাকে।
সব মিলিয়ে, শ্রীমঙ্গল–মৌলভীবাজার অঞ্চলে চড়ক পূজা আজও ঐতিহ্য, ভক্তি ও লোকজ সংস্কৃতির এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ হিসেবে টিকে আছে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এ ঐতিহ্যকে পৌঁছে দিচ্ছে।
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
