মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের রাজনগরে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার পর ‘নিখোঁজ’ নাটক সাজানো পাষণ্ড স্বামী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর আজ সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় গৃহবধূ চম্পা বেগমের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামে ঘটে যাওয়া এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
নিচে ঘটনাটির বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হলো:
ঘটনার বিবরণ ও ‘নিখোঁজ’ নাটক
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে (আনুমানিক জুনের মাঝামাঝি সময়ে) পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যা করেন তার স্বামী আলমগীর। হত্যাকাণ্ডটি ধামাচাপা দিতে তিনি বাড়ির পাশেই একটি নির্জন স্থানে মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে রাখেন।
এরপর ঘটনা ভিন্ন খাতে মোড় নিতে আলমগীর এলাকায় রটনা তৈরি করেন যে, তার স্ত্রী কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছেন। প্রতিবেশীদের কাছে স্ত্রীর খোঁজ নেওয়ার ভান করার পাশাপাশি শ্বশুরবাড়ির লোকজনকেও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন তিনি।
নিজেই থানায় জিডি এবং অতঃপর গ্রেপ্তার
নাটকের চূড়ান্ত পর্যায়ে আলমগীর নিজেই রাজনগর থানায় গিয়ে স্ত্রী নিখোঁজ দাবি করে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তবে জিডি করার পর থেকেই তার আচরণে ও কথাবার্তায় অসংলগ্নতা লক্ষ্য করে পুলিশ।
রাজনগর থানার তদন্তকারী দল আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় তলব করে। পুলিশের ম্যারাথন ও মুখোমুখি জেরার একপর্যায়ে আলমগীরের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় এবং তিনি স্ত্রীকে হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।
মরদেহ উদ্ধার ও বর্তমান পরিস্থিতি
আজ সোমবার সকালে আলমগীরের স্বীকারোক্তি ও দেখানো তথ্য অনুযায়ী রাজনগর থানা পুলিশের একটি দল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে করিমপুর গ্রামের ওই বাড়ির পাশে মাটি খনন শুরু করে।
মরদেহ উদ্ধার: মাটি খুঁড়ে ওই গৃহবধূর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ ২০ দিন মাটির নিচে থাকায় মরদেহটি বিকৃত হয়ে গিয়েছিল।
জনতার ক্ষোভ: মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাজারো উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় জমায়। খুনি আলমগীরের ফাঁসির দাবিতে এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
পরবর্তী পদক্ষেপ: পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত
রাজনগর থানা পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘাতক স্বামী আলমগীরকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আলমগীরের সাথে আর কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশী তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি: ভুক্তভোগী গৃহবধূর পরিবার এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘাতক আলমগীরের দ্রুত বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি (ফাঁসি) দাবি করেছে।
