হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন বাসের শ্রীমঙ্গলে যাত্রাবিরতি বন্ধ: জনদুর্ভোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন বাস সার্ভিস শ্রীমঙ্গল শহরে যাত্রাবিরতি না দেওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী যাত্রী ও সর্বস্তরের জনগণ। একটি পরিবহন-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে শ্রীমঙ্গলবাসী কেন গণপরিবহন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন—এমন প্রশ্ন তুলে অবিলম্বে শ্রীমঙ্গল শহরে ওই বাস সার্ভিসের পূর্বের যাত্রাবিরতি পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) শ্রীমঙ্গলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগীতশিল্পী, সোশ্যাল ওয়ার্কার ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. তারেক ইকবাল চৌধুরী। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিহার রঞ্জন দেবনাথ সাবেক পুলিশ পরিদর্শক ও হবিগঞ্জ ঐক্য উন্নয়ন সংস্থা শ্রীমঙ্গল শাখার সভাপতি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, হবিগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ শ্রীমঙ্গল। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী, পর্যটকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ এ সড়কপথে যাতায়াত করেন। অথচ হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন বাস সার্ভিস শ্রীমঙ্গল শহরে যাত্রাবিরতি বন্ধ করে দেওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে।
বক্তারা বলেন, একটি পরিবহন প্রতিষ্ঠান অন্য জেলার ওপর দিয়ে চলাচল করবে, অথচ সেই জেলার গুরুত্বপূর্ণ শহর শ্রীমঙ্গল থেকে যাত্রী ওঠানামা করতে পারবে না—এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জন্য বৈষম্যমূলক ও জনস্বার্থবিরোধী। পরিবহন মালিক বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক বিরোধ থাকলে তার দায় কোনোভাবেই সাধারণ যাত্রীদের ওপর চাপানো উচিত নয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বর্তমানে শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জের সঙ্গে কার্যকর কোনো বিরতিহীন বাস সার্ভিস না থাকায় যাত্রীদের একাধিকবার বাস পরিবর্তন করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ, দারিকা পাল মহিলা কলেজ, শ্রীমঙ্গল আলিয়া মাদ্রাসা, সিরাজনগর আলিয়া মাদ্রাসা, ডুবাগাঁও আলিয়া মাদ্রাসা, সাতগাঁও সামাদিয়া আলিয়া মাদ্রাসা, বরুণা কওমি মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হবিগঞ্জ জেলার শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করেন। বাস সার্ভিসের এ সংকটের কারণে তাদের নিয়মিত যাতায়াতেও সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
বক্তারা বলেন, চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র। দেশ-বিদেশের পর্যটকরা প্রতিদিন এখানে আসেন। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী জেলার সরাসরি ও যাত্রীবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত হয়ে পড়া শুধু স্থানীয় জনগণের জন্য নয়, পর্যটন ও আঞ্চলিক যোগাযোগের জন্যও নেতিবাচক।
সংবাদ সম্মেলন থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—
১. হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন বাস সার্ভিসের শ্রীমঙ্গল শহরে পূর্বের যাত্রাবিরতি অবিলম্বে পুনর্বহাল করে যাত্রী ওঠানামার সুযোগ দিতে হবে।
২. কোনো পরিবহন মালিক বা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক বিরোধের কারণে কোনো এলাকার সাধারণ যাত্রীদের গণপরিবহন সুবিধা বন্ধ করা যাবে না।
৩. শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জগামী যাত্রীদের জন্য নিয়মিত, নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব সরাসরি বাস সার্ভিস নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, তাদের দাবি কোনো ব্যক্তি, পরিবহন মালিক বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়; এটি সাধারণ যাত্রীদের অধিকার ও জনস্বার্থের দাবি। পরিবহন মালিকদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তার সমাধান করতে হবে। কিন্তু সেই বিরোধের কারণে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে শ্রীমঙ্গল শহরে হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন বাস সার্ভিসের যাত্রাবিরতি পুনর্বহাল করে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবি জানানো হয়।
এ সময় সংবাদকর্মীদের প্রতি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের আহ্বান জানানো হয়।
