আনোয়ার হোসেন রনি, ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় ‘শেখ নাসিরুদ্দিন’ ব্র্যান্ডের বিড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ সময় ১ লাখ ২৬ হাজার শলাকা বিড়ি জব্দ করা হলেও অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় পলাতক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ছাতক থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে ছাতক থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সাদেক সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স নিয়ে থানা এলাকায় ওয়ারেন্ট তামিল এবং নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনকালে নোয়ারাই ইউনিয়নের আছাদনগর বেতুরা মাদ্রাসা সংলগ্ন খেয়াঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তারা দেখতে পান, একটি নৌকা থেকে কয়েকটি কার্টন নামাচ্ছেন দুই ব্যক্তি।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই দুই ব্যক্তি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করে। এসআই মো. সাদেক ও তার সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা ধাওয়া করলেও অভিযুক্তরা স্থানীয় পাড়ার ভেতরের রাস্তা ব্যবহার করে দক্ষিণ দিকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ফেলে যাওয়া ছয়টি কার্টন তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিতে কার্টনগুলো থেকে আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় ‘শেখ নাসিরুদ্দিন’ ব্র্যান্ডের মোট ১ লাখ ২৬ হাজার শলাকা বিড়ি উদ্ধার করা হয়। বাংলাদেশে বৈধভাবে আমদানির অনুমোদন না থাকায় এগুলোকে চোরাচালানের পণ্য হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া বিড়ির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে এসব বিড়ি দেশে এনে স্থানীয় বাজারে সরবরাহের প্রস্তুতি চলছিল। পুলিশের দ্রুত অভিযানের কারণে চোরাচালানকারীদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ভারতীয় পণ্য দেশে প্রবেশ করছে। বিশেষ করে বিড়ি, সিগারেট, প্রসাধনী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য চোরাইপথে এনে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঝেমধ্যে অভিযান চালালেও চক্রটি সক্রিয় রয়েছে।
ছাতক থানা পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত বিড়ি জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত দুই পলাতক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চোরাচালান ও অবৈধ পণ্য আমদানি প্রতিরোধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, অবৈধ পণ্যের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ জনগণের সহযোগিতাও জরুরি। সন্দেহজনক কার্যক্রম দেখলে দ্রুত প্রশাসনকে জানালে চোরাচালান প্রতিরোধ আরও কার্যকর হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, পুলিশের এই অভিযান চোরাচালানকারীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে।
বর্তমানে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
#amarsylhet24
