নিজস্ব প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পৌরসভার শাপলাবাগ এলাকায় দুই বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে শাপলাবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে মো. খোরশেদ আলী (৪২)-কে। তিনি মৃত সৈয়দ আলীর ছেলে। তার স্থায়ী বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার লাহাই গ্রামে হলেও ঘটনাকালে শ্রীমঙ্গলের শাপলাবাগ এলাকায় আলী পাটোয়ারীর বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগী পরিবার পাশাপাশি কক্ষে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। ঘটনার রাতে দুই বছর বয়সী শিশু আফিয়া ইসলাম হাবিবা ঘরের বাইরে থাকাকালে অভিযুক্ত তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর শিশুটির চিৎকার ও কান্নার শব্দ শুনে তার মা মোছা. সামিয়া আক্তার (১৯) এবং আশপাশের লোকজন সেখানে ছুটে যান। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে তার যৌনাঙ্গে রক্তাক্ত অবস্থার আলামত দেখতে পান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত শিশুটিকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
ঘটনার পরপরই স্বজনরা শিশুটিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে রেফার করেন।
ভুক্তভোগী শিশুটির পিতা মো. হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা নং-৩৮ হিসেবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(৪)(খ) ধারায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার প্রেক্ষিতে তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাকের উপস্থিতিতে এসআই হারুনুর রশিদ ও এসআই ইমানুরসহ পুলিশের একটি টিম গত মধ্যরাতে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার পর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করলে আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠানো হয়। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এ প্রতিবেদনের তথ্য মামলার এজাহার, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রকাশিত। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।
