পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে দাদি ও নাতনিকে নৃশংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে ডিবি পুলিশ ও ঈশ্বরদী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঈশ্বরদী থানার মামলা নং-০১, তারিখ ০১/০৩/২০২৬ ইং, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৯(৩)/৩০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
মামলার বাদী মোছাঃ মর্জিনা খাতুন (৫৩) জানান, তাঁর মা সুফিয়া খাতুন (৬৫) ছেলে জয়নাল আবেদীনের বাড়িতে বসবাস করতেন। জয়নালের স্ত্রী না থাকায় সেখানে নাতনি জামিলা আক্তার সেতু (১৫) দাদির সঙ্গে থাকত। সেতু কালিকাপুর দাখিল মাদ্রাসার ১০ম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা ঢাকায় কর্মরত।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে দাদি ও নাতনি ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন সকালে তাদের খোঁজ না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে সুফিয়া খাতুনের মরদেহ বাড়ির গেটের সামনে এবং জামিলা আক্তার সেতুর বিবস্ত্র মরদেহ ঈশ্বরদী থানাধীন আল্লাদী মৌজায় একটি গমক্ষেতে পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা সুফিয়া খাতুনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে এবং সেতুকে অপহরণের পর ধর্ষণ শেষে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে যায়।
তদন্ত ও গ্রেপ্তার
পাবনার পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার জাহিদের দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রেজিনূর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ঈশ্বরদী সার্কেল, ওসি ডিবি ও ওসি ঈশ্বরদী থানার নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) বেনু রায়, পিপিএম এবং এসআই (নিঃ) অসিত কুমার বসাক তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করেন।
পরবর্তীতে কালিকাপুর এলাকা থেকে মোঃ শরিফুল ইসলাম (৩০), পিতা-মোঃ মোফাজ্জলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে যা জানা যায়
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত শরিফুল ইসলাম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। সে জানায়, নিহত সুফিয়া খাতুন তার খালা। ওই বাড়িতে যাতায়াতের সুবাদে সেতুর প্রতি তার কুদৃষ্টি পড়ে।
ঘটনার রাতে বাড়িতে প্রবেশ করলে সুফিয়া খাতুন বাধা দিলে তাকে আঘাত করে। পরে সেতুকে মারধর ও অপহরণের পর নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে হত্যা করে বলে পুলিশ জানায়।
জব্দকৃত আলামত
পুলিশ ঘটনাস্থল ও আসামির কাছ থেকে—
একটি হাতুড়ি
একটি বাঁশের খাটি
একটি কাঠের বাটাম
একটি বাটন মোবাইল ফোন
জব্দ করেছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
