নিজস্ব প্রতিবেদক: সারাদেশে চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুত করা তালিকায় মোট ৩ হাজার ৮৪৯ জন চাঁদাবাজের নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজার জেলায় রয়েছে ৪৫ জন।
তবে তালিকায় জেলার গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা শ্রীমঙ্গলের আলাদা কোনো তথ্য না থাকায় স্থানীয়ভাবে এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গত ৪ মার্চ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর পরপরই সারাদেশে তালিকা প্রণয়নের কাজ জোরদার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও দাগী আসামিদের পৃথক তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে।
সারাদেশের চিত্র থেকে পুলিশের প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী, সারাদেশে মোট ৩,৮৪৯ জন চাঁদাবাজ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে রয়েছে ১,২৫৪ জন এবং বাকি ২,৫৯৫ জন দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে রয়েছে।
বিভিন্ন জেলার মধ্যে কক্সবাজার, যশোর, নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জসহ অনেক জেলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চাঁদাবাজের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলের প্রেক্ষাপট
তালিকায় মৌলভীবাজার জেলায় ৪৫ জন চাঁদাবাজের নাম থাকলেও উপজেলা ভিত্তিক কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।
ফলে শ্রীমঙ্গলসহ জেলার কোন উপজেলায় কতজন রয়েছে তা নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয়দের মতে, পর্যটন এলাকা হিসেবে শ্রীমঙ্গলে বিভিন্ন সময় চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠলেও এ বিষয়ে পৃথক তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় বাস্তব চিত্র আড়ালে থেকে যাচ্ছে।
মাঠপর্যায়ের তথ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, তালিকাভুক্তদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুরোনো চাঁদাবাজদের অবস্থানও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেলা ভিত্তিক তালিকার পাশাপাশি উপজেলা ভিত্তিক তথ্য প্রকাশ করলে স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
