ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় মোটরসাইকেল পার্কিং ও ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে উপজেলা ছাত্রদল।
শুক্রবার রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালিত হয়।
উপজেলা ছাত্রদল নেতা মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি গোবিন্দগঞ্জের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ট্রাফিক পয়েন্টে এসে শেষ হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা।
খবর পেয়ে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ও এসআই রুমেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা আশরাফুর রহমান এনাম, সাদিকুর রহমান, এমাদ উদ্দিন, ফারুক আহমদ, জাহাঙ্গীর আলম, জহির উদ্দিন এবং যুবদল নেতা মুহিবুর রহমান মুহিবসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
এদিকে ছাত্রদলের এ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে গোবিন্দগঞ্জ-সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক এলাকায় পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও স্লোগান দেয় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।
বিক্ষোভ চলাকালে ওসি মিজানুর রহমান সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মোটরসাইকেল ভাঙচুরে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
বিক্ষোভকারীরা স্থানীয় যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত জায়েদ মিয়ার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে স্লোগান দেন। একপর্যায়ে জায়েদ মিয়ার দোকানে দেশীয় অস্ত্র রয়েছে বলে পুলিশকে অবহিত করা হয়। প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে ওসি মিজানুর রহমান স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ওই দোকানে তল্লাশি চালান। তবে তল্লাশিতে কোনো অবৈধ অস্ত্র বা নিষিদ্ধ সামগ্রী পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
পরে স্থানীয় সমাজসেবক আশরাফুর রহমান এনাম উপস্থিত জনতা ও নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন। তিনি সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার এবং কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনার পেছনে জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত অব্যাহত আছে।
