সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের গোয়াইনঘাটে আপন ভাতিজার বিরুদ্ধে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা ও পুলিশে বিচার চাওয়ায় কলিম উল্লাহ (৫৩) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের আপন বড় ভাই ছয়ফুল্লাহ এবং অভিযুক্ত ভাতিজার পরিবারের সদস্যরা এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
মূল ঘটনা ও সালিস ব্যর্থতা: গত ১২ আগস্ট কলিম উল্লাহর ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে তার আপন চাচাতো ভাই জুবের আহমদ (১৮/২১) ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে এলাকায় স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিসের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিচার পাওয়া যায়নি; উল্টো অভিযুক্ত পরিবার জুবেরকে গোপনে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করে।
কোনো উপায় না দেখে ১৫ আগস্ট (শনিবার) দুপুরে কলিম উল্লাহ ও তাঁর স্ত্রী মেয়েকে সাথে নিয়ে গোয়াইনঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ ও ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।
বিকেল আর এটার মধ্যে মামলা পাওয়ার পর গোয়াইনঘাট থানার পুলিশ দল তদন্ত ও আসামি ধরতে গ্রামে যায়। পুলিশ হাওরের দিকে জুবেরকে খুঁজতে গিয়ে স্থান ত্যাগ করার পরপরই ক্ষিপ্ত হয়ে সয়ফুল্লাহ (৬০) ও তার স্বজনেরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে কলিম উল্লাহর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। কলিম উল্লাহর গলায় দা দিয়ে কোপ দিলে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
১৬ আগস্ট পর্যন্ত সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত জুবের আহমদের বড় ভাই আমির উদ্দিনকে (২৭) গ্রেপ্তার করে। তবে হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ছয়ফুল্লাহ ও ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত জুবের আহমদ গা ঢাকা দিয়েছে।
মরদেহ ময়নাতদন্ত ও দাফন: ১৬ আগস্ট (রোববার) সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে কলিম উল্লাহর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। প্রক্রিয়া শেষে রোববার বিকেলে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে গ্রামে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
মামলার বর্তমান অবস্থা: ধর্ষণের মামলা ইতোমধ্যে নথিভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি দাফন সম্পন্ন করে শোকাহত পরিবার কর্তৃক মূল হত্যাকাণ্ড ও ধারালো অস্ত্র হামলার ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
গোয়াইনঘাট থানার ওসি. ওমর ফারুক মোড়ল নিশ্চিত করেছেন যে, “পলাতক প্রধান আসামি ছয়ফুল্লাহসহ অন্যান্য জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছেন।
