সিলেট প্রতিনিধি: পর্দাশীল পরিবেশে নারী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের তত্ত্বাবধানে মাতৃত্বসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সিলেটে যাত্রা শুরু করেছে ‘অল ওমেন মেটারনিটি কেয়ার’। মাউন্ট এডোরা হসপিটালের আখালিয়া শাখায় সম্পূর্ণ নারী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে বিশেষায়িত এ মাতৃত্বসেবা চালু করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘অল ওমেন মেটারনিটি কেয়ার’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, মুসলিম প্রধান দেশে অনেক মা-বোনের প্রত্যাশা থাকে পর্দাশীল পরিবেশে কোনো পুরুষের স্পর্শ ছাড়াই নারী চিকিৎসক ও সম্পূর্ণ নারী মেডিকেল টিমের তত্ত্বাবধানে নিরাপদে সিজারিয়ান সেকশন ও নরমাল ডেলিভারি করানোর। সিলেটে মাউন্ট এডোরা হসপিটালের এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী, মানবিক ও প্রশংসনীয়।
তিনি বলেন, নারীদের জন্য সম্পূর্ণ নারী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এমন একটি বিশেষায়িত মাতৃত্বসেবা ব্যবস্থা মা-বোনদের মনে স্বস্তি ও আস্থা তৈরি করবে। একই সঙ্গে এটি সিলেটের স্বাস্থ্যসেবায় একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি সুরমা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এবং ‘অল ওমেন মেটারনিটি কেয়ার’-এর অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ বিশেষায়িত সেবায় নিরাপত্তাকর্মী থেকে শুরু করে চিকিৎসক ও অভিজ্ঞ মেডিকেল টিমের সবাই নারী। ফলে বিশেষ করে প্রসবকালীন সময়ে নারী রোগীরা স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
তিনি বলেন, আধুনিক ও উন্নতমানের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) এবং মেটারনিটি কেয়ারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকমানের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। সকল শ্রেণি-পেশা ও ধর্মের মানুষের সাধ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তুলনামূলক কম খরচে সিজারিয়ান ও নরমাল ডেলিভারির সাশ্রয়ী প্যাকেজসহ বিভিন্ন প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও সুরমা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, সিলেট অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মের মায়েরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্য ও নিশ্চিন্ত মনে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ ‘অল-ফিমেল’ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন এবং মাউন্ট এডোরা ফার্টিলিটি সেন্টারের পরিচালক ডা. কিশোয়ার পারভীন বলেন, শুরু থেকেই মাউন্ট এডোরা হসপিটালের লক্ষ্য ছিল একটি সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল গড়ে তোলা। আইভিএফ সেন্টারের সফল সূচনার পর সিলেটের মানুষের চাহিদা বিবেচনায় সম্পূর্ণ নারী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী দ্বারা পরিচালিত ‘অল ওমেন মেটারনিটি কেয়ার’ চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সিলেটের অধিকাংশ নারী রোগী নারী চিকিৎসকের কাছে গাইনি সেবা নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। পুরুষ চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের দ্বিধা ও অস্বস্তি দূর করে সর্বোচ্চ স্বাচ্ছন্দ্য ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
নরমাল ডেলিভারি প্রসঙ্গে ডা. কিশোয়ার পারভীন বলেন, হাসপাতালে এলেই সিজার করা হয়—এমন ধারণা সঠিক নয়। অনেক সময় বাড়িতে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করার পর রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বা জটিল হয়ে গেলে হাসপাতালে আনা হয়। তখন সিজারিয়ান ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকে না। রোগীরা সময়মতো হাসপাতালে এলে এবং জটিলতা না থাকলে নরমাল ডেলিভারি করানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সুরমা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেডের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ আহবাব, পরিচালক ডা. সৈয়দ মাহমুদ হাসান, পরিচালক অধ্যাপক ডা. কে এম আখতারুজ্জামান, পরিচালক ডা. মো. বাকি বিল্লাহ, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. আলী আকবর, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. শাহিনারা ইসলাম মেরিন এবং চিফ অপারেটিং অফিসার ডা. তানভীরুজ্জামানসহ হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
পরে অতিথিরা মাউন্ট এডোরা হসপিটালের নতুন চালু হওয়া ‘অল ওমেন মেটারনিটি কেয়ার’ ইউনিটের বিভিন্ন অপারেশন থিয়েটার, কক্ষ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি পরিদর্শন করেন এবং হাসপাতালের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
