“নিজেরা অসৎ বলেই কি অন্যকে নিয়ে এত চুলকানি?”—এই প্রশ্নটি কি স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে না, যখন দেখা যায় কেউ নিজের জীবনের হিসাব না রেখে সারাক্ষণ অন্যের চরিত্রের হিসাব কষতে ব্যস্ত?
কিছু মানুষের নিজের চরিত্রের হিসাব নেই, অথচ অন্যের চরিত্রের খাতা যেন সবসময় খোলা। কে কার সঙ্গে হাঁটল, কে কার সঙ্গে কথা বলল, কোনো নারী কোথায় গেলেন, কার পাশে দাঁড়ালেন কিংবা কার সঙ্গে দেখা করলেন—এসব নিয়েই তাদের কৌতূহলের শেষ নেই।
নিজের জীবনের অন্ধকার ঘরটি পরিষ্কার করার সময় নেই, অথচ অন্যের জানালায় উঁকি দেওয়ার জন্য সারাক্ষণ চোখ প্রস্তুত।
প্রশ্ন হলো—এই অকারণ আগ্রহের উৎস কোথায়?
উত্তরটি কঠিন হলেও অনেক সময় সরল—মানুষ অনেক সময় অন্যকে নিজের মানসিকতার আয়নায় দেখতে শুরু করে। যার দৃষ্টিভঙ্গি কুৎসিত, সে অন্যের স্বাভাবিকতার মধ্যেও কুৎসা খোঁজে। যে নিজেই সন্দেহপ্রবণ, সে স্বাভাবিক সম্পর্ককেও সন্দেহের চোখে দেখে। আর যে নিজের বিবেকের মুখোমুখি হতে চায় না, সে অন্যের চরিত্রের বিচারক হয়ে বসে।
নারী দেখলেই কুৎসা খোঁজার এই মানসিকতা কেন?
এখানে কথা সব মানুষের বিরুদ্ধে নয়; কথা সেই মানসিকতার বিরুদ্ধে, যেখানে একজন নারীর স্বাভাবিক চলাফেরাকেও কুৎসার চোখে দেখা হয়।
একজন বাবা তার মেয়েকে নিয়ে রাস্তায় হাঁটছেন—সন্দেহ!
দুজন সহকর্মী কথা বলছেন—সন্দেহ!
একজন নারী ও একজন পুরুষ পেশাগত প্রয়োজনে দেখা করেছেন—সন্দেহ!
কেউ কারও সঙ্গে ছবি তুলেছেন—সন্দেহ!
অর্থাৎ স্বাভাবিকতার জায়গাটুকুও যেন তাদের কাছে নেই। প্রতিটি সম্পর্ককে নিজেদের কল্পনার ছাঁচে ফেলে তার ভিন্ন অর্থ দাঁড় করানোই যেন তাদের অভ্যাস।
অথচ একজন নারীকে জনসমক্ষে দেখা গেছে বলেই তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গল্প বানানোর অধিকার কেউ পায়নি।
তার পোশাক আপনার বিচারসভা নয়।
তার চলাফেরা আপনার আলোচনার বিষয় নয়।
সে কার সঙ্গে কথা বলবে, সেটি আপনার অনুমতির বিষয় নয়।
আর তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে কুৎসা রটানো কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নয়।
স্বাধীনতার নামে অসভ্যতাকে বৈধতা দেওয়া যায় না।
চরিত্রবান মানুষ অন্যের চরিত্র নিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকে না
মানুষের সম্মান নষ্ট করতে কখনো কখনো এক মিনিটই যথেষ্ট; কিন্তু সেই সম্মান ফিরিয়ে আনতে বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে। এ কারণেই দায়িত্বশীল মানুষ কথা বলার আগে ভাবেন, অভিযোগের আগে তথ্য খোঁজেন এবং অন্যের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মন্তব্য করার আগে নিজের বিবেককে প্রশ্ন করেন।
কিন্তু কুরুচির চর্চা যেখানে অভ্যাসে পরিণত হয়, সেখানে চিত্রটি ভিন্ন।
আগে সন্দেহ, পরে গল্প।
আগে ইঙ্গিত, পরে ব্যাখ্যা।
আগে অপমান, পরে সেটিকে ‘মজা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এই প্রবণতাকে আরও সহজ করে দিয়েছে। সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার সাহস নেই, কিন্তু একটি আইডির আড়ালে বসে অন্যের সম্মান নিয়ে মন্তব্য করতে দ্বিধা নেই।
এ সাহস নয়; এটি দায় এড়িয়ে কুরুচি প্রকাশের সহজ পথ।
সাংবাদিকতা আর চরিত্রহনন এক জিনিস নয়
এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকতার বিষয়টিও স্পষ্ট করা জরুরি।
একজন সাংবাদিক কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলবেন—এটাই তার পেশাগত দায়িত্বের অংশ। একজন কর্মকর্তা কোনো সাংবাদিকের সঙ্গে দেখা করবেন—এটিও স্বাভাবিক পেশাগত যোগাযোগ।
কেউ তথ্য জানতে চাইলে, সাক্ষাৎকার নিলে, কোনো বিষয়ে আলোচনা করলে কিংবা একই স্থানে উপস্থিত থাকলে সেটিকে কুৎসার উপাদানে পরিণত করা সাংবাদিকতা নয়।
প্রমাণ থাকলে সংবাদ করুন। অভিযোগ থাকলে অভিযোগ হিসেবে প্রকাশ করুন। অনিয়ম থাকলে অনুসন্ধান করুন। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া কারও ব্যক্তিগত মর্যাদায় আঘাত করবেন না।
সংবাদ আর গুজব এক নয়।
প্রশ্ন আর কুৎসা এক নয়।
অনুসন্ধান আর চরিত্রহননও এক নয়।
হাতে মোবাইল থাকলেই কেউ সাংবাদিক হয়ে যান না; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট লিখলেই কেউ সত্যের মালিক হয়ে যান না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কাউকে হেয় করার লাইসেন্স নয়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করে লেখালেখিকে ‘সৎ উদ্দেশ্য’, ‘সামাজিক সচেতনতা’ কিংবা ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ বলে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা এক ধরনের আত্মপ্রবঞ্চনা।
কারও বিরুদ্ধে সত্যিই অভিযোগ থাকলে তথ্য দিন। প্রমাণ থাকলে তুলে ধরুন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করুন। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে বিষয়টি সামনে আনুন।
কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে অপমান করা, ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় চরিত্রহনন করা, ব্যক্তিগত সম্পর্ককে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা কিংবা অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে মানুষের ধারণা প্রভাবিত করা—এসব কোনো মহৎ উদ্দেশ্যের পরিচয় নয়।
অন্যকে ছোট করে নিজেকে সৎ প্রমাণ করা যায় না।
বরং এমন লেখালেখি শেষ পর্যন্ত অন্যের চেয়ে লেখকের নিজের ভাষা, রুচি, উদ্দেশ্য ও মানসিকতাকেই বেশি প্রকাশ করে।
শুধু কটূক্তিকারী নয়, প্রশাসনের দায়বদ্ধতাও প্রশ্নের মুখে
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই—নারীর প্রতি প্রকাশ্য অশালীন আচরণ, কটূক্তি, উত্ত্যক্ত করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কি কোনো দায়বদ্ধতা নেই?
অবশ্যই আছে।
কোনো নারী রাস্তায় চলাচল করবেন আর তাকে প্রকাশ্যে কটূক্তি করা হবে, অপমান করা হবে কিংবা হয়রানির শিকার হতে হবে—এগুলোকে ‘ছেলেমানুষি’, ‘মজা’ কিংবা ‘সামাজিক বাস্তবতা’ বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। জনসমক্ষে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্বের অংশ।
আইন শুধু অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নয়; অপরাধ প্রতিরোধ করাও প্রশাসনের দায়িত্ব।
কোথাও নিয়মিত নারীদের উত্ত্যক্ত করা হলে, একই স্থানে বারবার কটূক্তির ঘটনা ঘটলে কিংবা কোনো নারী অভিযোগ করার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে প্রশ্ন উঠবেই—প্রশাসন কি বিষয়টি জানে না, নাকি জেনেও গুরুত্ব দিচ্ছে না?
প্রকাশ্য স্থানে নারীর প্রতি অশালীন মন্তব্য বা আচরণের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবার ডিজিটাল মাধ্যমে যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল, আপত্তিকর বা ক্ষতিকর যৌন উপাদান ছড়ানো কিংবা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির মতো কর্মকাণ্ডও পরিস্থিতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে সাইবার আইনের আওতায় অপরাধ হতে পারে।
কর্মক্ষেত্রের ক্ষেত্রেও দায়িত্ব আরও স্পষ্ট। ২০২৬ সালের শ্রম আইনের সংশোধনীতে কর্মপরিবেশকে হয়রানিমুক্ত রাখা, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, অভিযোগ গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে নিয়োগকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে এখানেও ভারসাম্য জরুরি।
প্রশাসনের দায়িত্ব কাউকে প্রমাণ ছাড়া অপরাধী বানানো নয়; দায়িত্ব হলো অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া, নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া।
অভিযোগ পাওয়ার পর শুধু ‘বিষয়টি দেখছি’ বললেই প্রশাসনিক দায়িত্ব শেষ হয় না। অভিযোগের প্রকৃতি অনুযায়ী প্রাথমিক যাচাই, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা এবং পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর উদ্যোগ—সবকিছুর প্রতিই দায়িত্বশীল হতে হবে।
সুতরাং প্রশাসনের প্রতি প্রশ্নটি সরাসরি—
একজন নারীকে প্রকাশ্যে অপমান করা পর্যন্ত কি অপেক্ষা করতে হবে?
তারপরও কি ভিডিও ভাইরাল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে?
নাকি আগেই এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে, যেখানে নারীর প্রতি কটূক্তি করার সাহসটুকুও কেউ না পায়?
প্রশাসনের দৃশ্যমান, দ্রুত ও নিরপেক্ষ ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আইন যদি শুধু কাগজে থাকে, কিন্তু অপরাধী জানে যে বাস্তবে তাকে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে না, তাহলে আইনের প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে।
অপরাধের পর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি; কিন্তু অপরাধ ঘটার আগেই তা প্রতিরোধ করা আরও জরুরি।
নারীর মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব শুধু নারীর নিজের নয়, শুধু পরিবারেরও নয়—এটি পরিবার, সমাজ, প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের সম্মিলিত দায়িত্ব।
সমালোচনা আর অপমান—দুটিকে এক করে ফেলবেন না
এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি সামনে আসে—কাউকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা আর কাউকে হেয় করা কি একই বিষয়? মোটেই নয়।
সমালোচনা হয় কোনো কাজ, সিদ্ধান্ত, বক্তব্য বা আচরণের। সেখানে তথ্য থাকে, যুক্তি থাকে, প্রশ্ন থাকে এবং সংশোধনের সুযোগ থাকে। সমালোচনার ভাষা কঠোর হতে পারে, তীব্রও হতে পারে; কিন্তু তার লক্ষ্য থাকে ভুল, অনিয়ম বা অসঙ্গতিকে চিহ্নিত করা।
অন্যদিকে অপমানের লক্ষ্য হলো ব্যক্তিকে ছোট করা, তার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা কিংবা সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা।
কোনো সিদ্ধান্ত ভুল মনে হলে তার যুক্তিসংগত সমালোচনা করুন। কোনো বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে তথ্য দিয়ে প্রতিবাদ করুন। কোনো অনিয়মের প্রমাণ থাকলে তা সামনে আনুন।
কিন্তু প্রমাণের বদলে ইঙ্গিত, যুক্তির বদলে কুৎসা এবং বক্তব্যের বদলে ব্যক্তিগত আক্রমণকে বেছে নেওয়া কোনো সৎ উদ্দেশ্যের পরিচয় নয়।
কাজের সমালোচনা করার অধিকার আছে; কিন্তু কাউকে অপমান করার অধিকার নেই।
এই সীমারেখা যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বুঝতে পারে না, তার হাতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খুব সহজেই অন্যের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অস্ত্রে পরিণত হতে পারে।
কারও সম্মান আপনার বিনোদনের উপকরণ নয়
কোনো নারীর ছবি নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করা, তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে গল্প বানানো, অসম্পূর্ণ তথ্যকে রসালো করে ছড়ানো কিংবা একটি স্বাভাবিক ঘটনাকে বিকৃত করে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করা—এসবকে ‘ট্রল’ বলে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই।
আপনার একটি মন্তব্য আপনার কাছে কয়েক সেকেন্ডের বিনোদন হতে পারে; কিন্তু অন্যের কাছে সেটি হতে পারে দীর্ঘদিনের অপমান ও সামাজিক চাপের কারণ।
আপনি যে মানুষটিকে নিয়ে আজ হাসছেন, একই কৌশলে কাল আপনার মা, বোন, স্ত্রী কিংবা মেয়েকেও কেউ অপমান করতে পারে।
তখন কি সেটিও ‘মজা’ থাকবে?
তখন কি সেটিও ‘ফেসবুকের স্বাধীনতা’ থাকবে?
তখন কি বলবেন—‘মানুষ তো একটু বলবেই’?
না। তখন আপনিও সম্মান চাইবেন।
এই দ্বিচারিতাই আমাদের সামাজিক সংকটের একটি বড় দিক।
অন্যের সম্মান নষ্ট করে নিজের ঘর নিরাপদ থাকে না
একটি ইঙ্গিত, একটি মিথ্যা গল্প কিংবা একটি বিকৃত পোস্ট কখনো কখনো একজন মানুষের বহু বছরের সামাজিক সম্মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য যথেষ্ট।
কিন্তু সেই ক্ষত সারানো সহজ নয়।
তাই যারা ভুয়া পরিচয়, নামসর্বস্ব আইডি কিংবা আড়ালের অ্যাকাউন্ট থেকে অন্যকে অপমান করেন, তাদের মনে রাখা উচিত—ডিজিটাল পর্দার আড়াল কাউকে নৈতিক দায়মুক্তি দেয় না।
পরিচয় লুকানো যায়, কিন্তু উদ্দেশ্য ও আচরণের দায় লুকানো যায় না।
অন্যের সম্মান নিয়ে খেলা কোনো বীরত্ব নয়; বরং এটি নিজের বিবেকের দেউলিয়াত্ব প্রকাশ করে।
যারা নৈতিকতার ব্যবসা করেন, তাদের জন্যও কথা আছে
আপনি যদি সত্যিই সমাজের নৈতিকতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হন, তাহলে প্রথমে নিজের ভাষা ঠিক করুন।
আপনি যদি নারীর মর্যাদা নিয়ে কথা বলেন, তাহলে নারীর প্রতি আপনার নিজের আচরণও মর্যাদাপূর্ণ হতে হবে।
আপনি যদি কারও ভুল ধরতে চান, তথ্য নিয়ে আসুন।
আপনি যদি কোনো অনিয়ম প্রকাশ করতে চান, প্রমাণ দিন।
আর যদি প্রমাণ না থাকে, তাহলে অন্তত কুৎসা ছড়ানোর দায়িত্ব নেবেন না।
কারণ—
অভিযোগ আর অপবাদ এক নয়।
সমালোচনা আর অপমান এক নয়।
সাংবাদিকতা আর চরিত্রহননও এক নয়।
আয়নায় তাকানোর সময় এসেছে
অন্যের চরিত্র নিয়ে বিচারসভা বসানোর আগে একবার নিজের জীবনটা দেখুন।
আপনার কথাবার্তা কি সত্যিই শালীন?
আপনার আচরণ কি সত্যিই প্রশ্নের ঊর্ধ্বে?
আপনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভাষা কি আপনার নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?
আপনি যাদের নিয়ে মন্তব্য করেন, তাদের জায়গায় যদি আপনার নিজের পরিবারের মানুষ থাকতেন—তখনও কি একই ভাষা ব্যবহার করতেন?
যদি উত্তর ‘না’ হয়, তাহলে বুঝে নিন—সমস্যাটি ওই নারী বা ওই মানুষের মধ্যে নয়।
সমস্যাটি আপনার দৃষ্টিভঙ্গিতে।
তাই নারীদের চলাফেরা নিয়ে কটূক্তি করা, স্বাভাবিক সম্পর্ককে নোংরা ইঙ্গিতে ব্যাখ্যা করা, পেশাগত যোগাযোগকে চরিত্রহননের অস্ত্র বানানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কুৎসার মঞ্চে পরিণত করা বন্ধ করুন।
অন্যের সম্মান নিয়ে খেলা বন্ধ করুন।
নিজের কুৎসিত কল্পনাকে সমাজের সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা বন্ধ করুন।
আর সবচেয়ে বড় কথা—
অন্যের চরিত্রের পোস্টমর্টেম করার আগে নিজের বিবেকের আয়নায় একবার তাকান।
কারণ মানুষকে আপনি যতটা বোকা ভাবেন, সমাজ ততটা বোকা নয়।
সমাজ দেখে।
সমাজ মনে রাখে।
সমাজ একদিন হিসাবও নেয়।
আর সেদিন আয়না সামনে ধরলে হয়তো দেখা যাবে—যার চরিত্র নিয়ে এতদিন কথা বলেছেন, তার চেয়ে বেশি প্রকাশ্যে এসেছে আপনার নিজের চরিত্রই।
তাই শেষ কথা খুব সংক্ষিপ্ত—
অন্যের সম্মান আপনার বিনোদন নয়।
নারীর জীবন আপনার বিচারসভা নয়।
সমালোচনা আপনার অধিকার—অপমান নয়।
আর কুৎসা কখনো সাংবাদিকতা নয়।
নিজের ভেতরটা পরিষ্কার করুন।
তারপর অন্যের দিকে আঙুল তুলুন।
সম্পাদকীয় লেখক: মুহাম্মদ আনিছুল ইসলাম আশরাফী
প্রধান সম্পাদক
আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম
সভাপতি, শ্রীমঙ্গল অনলাইন প্রেসক্লাব
