ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের আমেরতল গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন।
গত শনিবার (২৩ মে) সকাল ৯টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে পুরো গ্রাম রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়রা নিরাপত্তার স্বার্থে ঘরবাড়িতে তালাবদ্ধ হয়ে পড়েন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমেরতল গ্রামের দুই প্রভাবশালী পক্ষ—একটি এডভোকেট মনির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন গ্রুপ এবং অপরটি কফিল উদ্দিনের গ্রুপ—দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য, মামলাজট, ব্যক্তিগত শত্রুতা ও সামাজিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধে জড়িয়ে আছে। এ বিরোধের জেরে এলাকায় প্রায়ই উত্তেজনা ও ছোট-বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের দাবি, কফিল উদ্দিনপক্ষের এক মামলার আসামি ফয়সাল আহমদ সম্প্রতি নিজ বাড়িতে ফেরার পর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
শনিবার সকালে উভয় পক্ষ লাঠিসোটা, রামদা, দা, বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। মুহূর্তের মধ্যেই ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে নারী ও শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে গুরুতর আহত অন্তত ২৯ জনকে সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও ২০ জন চিকিৎসাধীন আছেন এবং ১১ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক সংঘর্ষ, হামলা, মামলা ও পাল্টা মামলা চলমান থাকলেও স্থায়ী সমাধান না থাকায় পরিস্থিতি বারবার উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টিকে একটি গুরুতর সামাজিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করে সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। পরিবারগুলো চিকিৎসা ব্যয় ও আইনি জটিলতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। পুরো এলাকায় এখনো উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
