আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বিশেষ প্রতিবেদন, ২৬ আগস্ট ২০২৬: নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় তিব্বত সীমান্তে এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে আকস্মিক বন্যা (হড়পা বান) ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। সীমান্তঘেঁষা রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলার নদী অববাহিকায় পানি উপচে পড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।
হঠাৎ ঢল ও দুর্যোগের সূচনা:
২৬ আগস্ট সকালে কোনো রকম আগাম আভাস বা বৃষ্টিপাত ছাড়াই হঠাৎ করেই ফুলে-ফেঁপে ওঠে ভোট কোশি ও ত্রিশূলী নদী। বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক ধারণা, তিব্বতের হিমালয় অঞ্চলে বরফধস বা শক্তিশালী ভূমিধসের কারণে কোনো প্রাকৃতিক হিমবাহ হ্রদ ভেঙে জমে থাকা কোটি কোটি লিটার পানি হঠাৎ নিচে নেমে আসে।
ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ও উদ্ধার পরিস্থিতি:
হতাহতের খবর: এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।
ব্যাপক নিখোঁজ: প্রাথমিক তথ্যানুসারে নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় চারশত (৩৮৪ জন)। এদের মধ্যে সীমান্ত সুরক্ষায় থাকা ৩৩ জন নিরাপত্তা সদস্য এবং তিব্বতের মানস সরোবর অভিমুখে যাওয়া ১০৫ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রীসহ ২৯১ জন বিদেশি ও ৯৩ জন স্থানীয় নাগরিক রয়েছেন।
যোগাযোগ ও অবকাঠামো বিচ্ছিন্ন: বন্যায় ৮টির বেশি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, সেতু, কাস্টমস অফিস ও সড়ক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
বর্তমানে নেপাল সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ এবং জরুরি উদ্ধারকারী দল ১৪টিরও বেশি হেলিকপ্টার ও ড্রোন নিয়ে দুর্ঘটনাস্থল ও দুর্গম এলাকায় সন্ধান অভিযান চালাচ্ছে। নিচের দিকের ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে রেড অ্যালার্ট জারি করে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
