মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার শহরে ‘বড় ভাই’ বলে সম্বোধন না করাকে কেন্দ্র করে হাসান আহমদ (১৫) নামে এক মাদরাসাছাত্রের শ্বাসনালি কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত ওই কিশোরকে প্রথমে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে ঢাকায় পাঠানো হয়। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আহত হাসান শহরের টাউন কামিল মাদরাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বুধবার (১২ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহর থেকে বাড়ি ফেরার পথে কুসুমবাগ এলাকায় কয়েকজন কিশোর তার পথরোধ করে। এ সময় তাদের একজন হাসানকে ‘বড় ভাই’ বলে সম্বোধন করতে বলে। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা ও শ্বাসনালিতে আঘাত করে এবং পরে তাকে মারধর করে ফেলে রেখে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলায় হাসানের গলার শ্বাসনালি গুরুতরভাবে কেটে যায়। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের পাশাপাশি প্রস্রাবের নালি ও পাঁজরে গুরুতর জখম হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে ঢাকায় পাঠানো হয়। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে, তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে, আহত কিশোরের এক আত্মীয় জানিয়েছেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের একটি ভিডিও রেকর্ড তাদের কাছে রয়েছে। তবে বিশেষ কারণে এই মুহূর্তে ভিডিওটি প্রকাশ করা হচ্ছে না। ভিডিওটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ভিডিওতে কী রয়েছে বা কারা হামলায় জড়িত, তা পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন কিশোরের সঙ্গে হাসানের আগে থেকেই বিরোধ ছিল। তাদের মধ্যে একজন তাকে বিভিন্ন সময় ‘বড় ভাই’ বলে ডাকতে চাপ দিত এবং এ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। তবে হামলার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় কারা জড়িত—তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, পূর্ববিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আটকের পাশাপাশি ভিডিওসহ অন্যান্য আলামত যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গুরুতর আহত হাসান ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
