বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলার হাড়িখালী-যদুনাথপুর গ্রামে প্রায় ৪০ বছর ধরে ব্যবহৃত একটি চলাচলের রাস্তা ইটের প্রাচীর নির্মাণ করে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় এক শিক্ষক পরিবারের পাশাপাশি এলাকার সাধারণ মানুষের চলাচলও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক মনিরুজ্জামান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে শিক্ষক মনিরুজ্জামান জানান, প্রতিবেশী আব্দুল খালেক ও হবিবার রহমানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ওই রাস্তা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। তাঁর বাড়ি থেকে মূল সড়কে ওঠার জন্য এটি একমাত্র কাঁচা রাস্তা, যা দিয়ে শুধু তাঁর পরিবার নয়, এলাকার বিভিন্ন মানুষ এবং কৃষকরাও মাঠ থেকে ফসল আনা-নেওয়া করে থাকেন। প্রায় ৪০ বছর ধরে রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এটি।
তিনি আরও দাবি করেন, রাস্তার জমিটি তিনি বহু আগে বৈধভাবে ক্রয় করেছেন। একই জমির অন্য অংশ বিবাদীরাও একই মালিকের কাছ থেকে ক্রয় করেছেন। কিন্তু বর্তমানে বিবাদীরা তাদের অংশের বাইরে অতিরিক্ত জমি দখল করে রাস্তার অংশও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৯ জুন ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে আব্দুল খালেক ও হবিবার রহমান ইট, বালু ও সিমেন্ট এনে রাস্তার মাঝখানে প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেন। এ সময় মনিরুজ্জামান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে বিবাদীরা তাদের ক্রয়কৃত জমিতে ইচ্ছামতো নির্মাণের কথা বলে এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি সেখান থেকে চলে আসেন।
মনিরুজ্জামানের দাবি, রাস্তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেলে তাঁর পরিবারসহ স্থানীয় অনেক মানুষের চলাচলে মারাত্মক দুর্ভোগ সৃষ্টি হবে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ায় তিনি প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
এ বিষয়ে শার্শা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল আলম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষকে বসতে বলা হয়েছে। সমাধান না হলে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
